পারভেজ আহমদ ::::: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নগরের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শুক্রবারও একই চিত্র অব্যাহত ছিল।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন ধারণা থেকে অনেকেই আগেভাগে তেল সংগ্রহ করতে পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্রেতা। তবে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় এবং ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে না।নগরের পাঠানটুলা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে চালকরা জ্বালানি সংগ্রহ করছেন।
মোটরসাইকেল চালক সুয়েব আহমদ বলেন, “যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে—এমন খবর শুনে একটু বেশি তেল নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।”পাম্পটির ম্যানেজার রুপক দাস বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। সরকার গত ১ মার্চ যে দাম নির্ধারণ করেছে, আমরা সেই দামেই তেল বিক্রি করছি।”
অন্যদিকে নগরের সোবহানীঘাট এলাকার একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার চালক জলিল মিয়া অভিযোগ করেন, অনেক পাম্পে তেলের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলেও আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না।
সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, সিলেটে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই; প্রয়োজনে মাস শেষে মূল্য সমন্বয় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ডিপো বন্ধ থাকায় অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং পাম্পগুলোকে রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছু পাম্পের মজুদও রবিবারের আগেই শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, “সিলেটের কোনো পাম্পেই এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের প্রকৃত সংকট হয়নি। সব পাম্পেই পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রশিদপুর ও কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রসহ সংশ্লিষ্ট উৎস থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত থাকলে সিলেটে তেলের সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সবাই একসঙ্গে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়।”
এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি মজুত না করে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করার জন্যও তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
Leave a Reply